
‘তার সঙ্গে’ – (অনুবাদ- শক্তি চট্টোপাধ্যায়)
সময়টা খুব সুবিধের না। আমার জন্যে অপেক্ষা করো।
দুজনে মিলে খুব সমঝে একে পার করতে হবে।
তুমি তোমার ঐ ছোট্ট দুটি হাত আমার হাতে রাখো
কষ্টেসৃষ্টেও উঠে দাঁড়াবো
ব্যাপারটা বুঝবো, আহ্লাদ করবো।
আমরা আবার সেরকম এক জুড়ি
যারা স্থানে-অস্থানে বেঁচেবত্তে এসেছে
পাথরে-ফাটলেও যাদের বাসা বানাতে আটকায় নি।
সময়টা মোটেই সুবিধের না। রোসো, আমার জন্যে দাঁড়াও,
কাঁকে ঝুড়ি নাও, শাবল নাও জুতো পরো,
কাপড়চোপড় সঙ্গে নিয়ে যাও, যা পারো।
এখন আমাদের একে অপরকে লাগবে
শুধু কারনেশন ফুলের জন্যে না
মধু তালাসের জন্যেও না,
আমাদের দুজনের হাতগুলোই লাগবে
ধুয়ে মুছে আগুন বানাবার জন্যে।
এই যে সুবিধের-নয়-সময়টা মাথা যতোই উঁচু করুক
আমরা আমাদের চার হাত চার চোখে একে যুঝবোই।
কবিতাটির সহজ ব্যাখ্যা (Summary)
একটা সময় এসেছে, যখন সবকিছু সহজ নয়, পরিস্থিতি প্রতিকূল। তাই কবি তার সঙ্গীকে বলছেন, “আমার জন্য অপেক্ষা করো, আমরা দুজনে মিলে এই কঠিন সময়টা পার করবো।” তিনি বোঝাতে চান, জীবন কঠিন হলেও একসঙ্গে থাকলে সব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
কবি তার সঙ্গীকে আশ্বাস দেন যে, তারা আগে অনেক কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছে, অনেক বাধা অতিক্রম করেছে। ঠিক যেমন কিছু পাখি বা প্রাণী পাথরের ফাটলেও বাসা বানিয়ে নেয়, তেমনি তারাও জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, “এখন আমাদের একে অপরকে দরকার, শুধু সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য নয়, শুধু ফুল বা মধুর সন্ধানে নয়, বরং একসঙ্গে সংগ্রাম করার জন্য।” তাদের হাতে হাত রেখে, একসঙ্গে কাজ করে নতুন আলো জ্বালাতে হবে, অন্ধকারকে দূর করতে হবে।
অবশেষে, কবি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, যত কঠিন সময়ই আসুক, তারা একে অপরের পাশে থেকে, নিজেদের শক্তি দিয়ে সব সমস্যার মোকাবিলা করবে।
কবিতার মূল ভাব
এই কবিতায় ভালোবাসা, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং জীবনের কঠিন সময়েও একসঙ্গে থাকার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। এটি শুধু প্রেমের কবিতা নয়, বরং জীবনের সমস্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। একসঙ্গে লড়াই করলে, প্রতিকূলতাও জয় করা সম্ভব।
এই কবিতায় প্রেম, অনুভূতি এবং গভীর সংযোগের এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কবিতার ভাষা কাব্যিক এবং আবেগপ্রবণ, যেখানে প্রেমের বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশিত হয়েছে। কবি প্রেমের রূপকে শুধু শারীরিক নয়, বরং মানসিক ও আত্মিক এক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছেন। অনুবাদেও সেই গভীরতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন।
কবিতার বৈশিষ্ট্য (Features)
- গভীর প্রেমের অনুভূতি (Deep Emotional Connection)
- চিত্রকল্পমূলক ভাষা (Imagery-Based Language)
- আবেগপূর্ণ উপস্থাপনা (Expressive Representation)
- অনুবাদের সূক্ষ্মতা (Subtlety in Translation)
![]()